বাচ্চা জন্মের ছয় মাসের মধ্যে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কিনা?
বাচ্চার জন্মের ছয় মাসের মধ্যে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কিনা
একটি শিশুর জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা মা-বাবার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব । অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে, বাচ্চার বয়স ৬ মাস হওয়ার আগেই কি তাকে বাড়তি খাবার দেয়া যায়? কেউ কেউ শিশুর কান্না, ঘনঘন বুকের দুধ পান করা কিম্বা ওজন কম বাড়ার কারণে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবার দিতে চান। কিন্তু শিশুর বয়স ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনা না করে বাড়তি খাবার দেওয়া তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই কখন থেকে বাড়তি খাবার শুরু করা উচিত এবং ছয় মাসের আগে কি খাওয়ানো নিরাপদ, তা জানা জরুরি।
সূচিপত্রঃ বাচ্চার জন্মের ছয় মাসের মধ্যে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কিনা তার ১৫ টি তালিকা
- বাড়তি খাবার বলতে কি বুঝায়?
- ছয় মাসের আগে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কিনা ?
- প্রথম ছয় মাসে বুকের দুধের গুরুত্ব
- খাবার দিলে কি সমস্যা হতে পারে
- শিশুর ক্ষুধা লাগার লক্ষণ ও ভুল ধারণা
- ফর্মুলা দুধ কি বাড়তি খাবারের বিকল্প
- পানি খাওয়ানোর সঠিক সময়
- ছয় মাসের আগে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন
- শিশুর ওজন কম বাড়লে কি করবেন
- ছয় মাস পূর্ণ হলে খাবার শুরু করার নিয়ম
- ছয় মাসের পর কোন খাবার দেওয়া যায়
- শিশুর খাবার তৈরিতে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
- শিশুকে খাওয়ানোর সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি
- শিশুর সুস্থ বিকাশে অভিভাবকের করণীয়
বাড়তি খাবার বলতে কি বুঝায়?
বাড়তি খাবার বা পরিপূরক খাবার বলতে বুকের দুধ বা ফর্মুলা দুধের পাশাপাশি শিশুকে দেওয়া অন্যান্য খাবারকে বোঝায়। যেমন নরম খিচুড়ি, সেদ্ধ ও চটকানো সবজ্ ডিম, ডাল এবং উপযুক্ত ফল। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু দুধ থেকে তার সব পুষ্টির চাহিদা পূরণ করার কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সাধারণত ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর দুধের পাশাপাশি উপযুক্ত বাড়তি খাবার শুরু করা হয়।
ছয় মাসের আগে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কি?
সাধারণভাবে, শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে বুকের দুধের পাশাপাশি ভাত, সুজি, খিচুড়ি, ফলের রস বা অন্যান্য কোন সাধারন খাবার দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডব্লিউ এইচ ও নির্দেশনা অনুযায়ী, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে একচেটিয়াভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত। অর্থাৎ চিকিৎসা গত ভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা নির্ধারিত ভিটামিন খনিজের ব্যতিক্রম ছাড়া অন্য খাবার বা পানিও দেয়া উচিত নয়।
শিশুর বিশেষ কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে চিকিৎসক আলাদা পরামর্শ দিতে পারেন। তাই পরিবারের অন্য কারো অভিজ্ঞতা বা প্রচলিত ধারণার ভিত্তিতে ছয় মাসের আগে বাড়তি খাবার শুরু না করাই ভালো।
প্রথম ছয় মাসে বুকের দুধের গুরুত্ব
জন্মের পর প্রথম ছয় মাসে শিশুর জন্য মায়ের বুকের দুধ অত্যন্ত উপকারী। এতে শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও পানি থাকে। পাশাপাশি বুকে দুধে থাকা অ্যান্টিবডি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে।
বুকের দুধ সহজে হজম হয় এবং শিশুর চাহিদা অনুযায়ী বারবার খাওয়ানো যায়। তাই মা ও শিশু উভয়ের জন্য গ্রহণযোগ্য হলে প্রথম ৬ মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোই উত্তম। এরপর দুই বছর বা তার বেশি সময় পর্যন্ত পরিপূরক খাবারের সঙ্গে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
৬ মাসের আগে বাড়তি খাবার দিলে কি সমস্যা হতে পারে?
ছয় মাসের আগে শিশুর হজম দক্ষতা ও গিলতে পারার দক্ষতা পুরোপুরি বিকশিত নাও হতে পারে। এ সময়ে অনুপযুক্ত খাবার দিলে কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমত, অপরিষ্কার পানি বা খাবারের মাধ্যমে জীবাণুর শরীরে প্রবেশ করে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণ ঘটাতে পারে। দ্বিতীয়ত, শিশুর পেট খাবারে ভরে গেলে সে কম বুকের দুধ পান করতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। তৃতীয়ত, শিশুর গিলতে পারার সক্ষমতা অনুযায়ী খাবার না দিলে শ্বাসনালীতে খাবার আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া অনুপযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত লবণ চিনি বা কোল ভাবে তৈরি ফর্মুলা দুধ শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই সঠিক বয়সের আগে বাড়তি খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
শিশুর ক্ষুধা লাগার লক্ষণ ও ভুল ধারণা
অনেক সময় শিশু বারবার কান্না করলে বা ঘন ঘন বুকের দুধ চাইলে অভিভাবকরা মনে করেন, শুধু দুধে তার পেট ভরছে না। কিন্তু কান্নার কারণ সব সময় খোদা নয়। শিশুর ঘুম, গরম লাগ্ অস্বস্তি, গ্যাস বা মায়ের সান্নিধ্যের প্রয়োজনেও কান্না হতে পারে।
শিশু হাত মুখে নিতে পারে স্তন খুঁজতে পারে বাট নাড়াতে পারে এগুলো ক্ষুধার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে শিশুকে চাহিদা মত বুকের দুধ দিন। পাশাপাশি সে ঠিকমতো দুধ পাচ্ছে কিনা, প্রসাবের পরিমাণ এবং ওজন বৃদ্ধির ধারা খেয়াল করুন। সন্দেহ হলে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, শুধু কান্নার কারণে বাড়তি খাবার শুরু করবেন না।
ফর্মুলা দুধ কি বাড়তি খাবারের বিকল্প?
মায়ের দুধ পর্যাপ্ত না পাওয়া গেলে বা চিকিৎসা কত কারণে বুকের দুধ খাওয়ানো সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে উপযুক্ত শিশু খাদ্য বা ফর্মুলা দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে ফর্মুলা দুধ ও ছয় মাসের আগে ভাত, সুজি বা অন্য সাধারণ খাবার দেওয়ার অনুমতি নয়।
ফর্মুলা দুধ প্রস্তুত করার সময় প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে নিরাপদ পানি, পরিষ্কার সরঞ্জাম এবং সঠিক পরিমাণ ব্যবহার করতে হবে। দুধ পাতলা বা ঘন করে তৈরি করা বিপদজনক হতে পারে। নির্বাচন এবং খাওয়ানোর নিয়ম জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পানি খাওয়ানোর সঠিক সময়
সাধারণত ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগে শুধু বুকের দুধ পান করা শিশুকে আলাদা করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বুকের দুধ থেকেই তার পানির চাহিদা পূরণ হয়। গরমের সময়ও সাধারণভাবে শিশুকে ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো উচ...
ছয় মাস পূর্ণ হলে বাড়তি খাবার শুরু করার সঙ্গে নিরাপদ পানিও অল্প অল্প করে দেওয়া যায়। তবে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুর ডায়রিয়া, জ্বর বা পানি শূন্যতার আশঙ্কা দেখা দিলে নিজে থেকে পানি বা ঘরোয়া পানিও না দিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসক নির্দিষ্ট তরল বা চিকিৎসা নির্দেশ করতে পারেন।
- ছয় মাসের আগে কোন খাবার গুলো এড়িয়ে চলবেন?
- ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুকে সাধারণত নিচের খাবারগুলো বা পানিও দেয়া উচিত নয়।
- ভাত, সুজ্ খিচুড়ি বা অন্য শক্ত ও নরম খাবার।
- ফলের রস, চিনির পানি বা মধু।
- গরুর দুধকে প্রধান পানিও হিসেবে ব্যবহার করা।
- চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া অন্য কোন পানীয় বা ঘরোয়া মিশ্রণ।
বিশেষভাবে মনে রাখবেন, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয্ কারণ এতে শিশুর বটুলিজম নামের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি থাকে। ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার পর শিশুর বয়স অনুযায়ী খাবার নির্বাচন করা জরুরি।
শিশুর ওজন কম বাড়লে কি করবেন?
শিশুর ওজন প্রত্যাশার মতো না বাড়লে অনেক অভিভাবক দ্রুত বাড়তি খাবার শুরু করতে চান। কিন্তু ওজন কম বাড়ার পেছনে বুকের দুধ ঠিকমতো না পাওয়া, স্তন্যপানের ভুল পদ্ধতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণ থাকতে পারে।
এক্ষেত্রে প্রথমে শিশুর ওজন, দীর্ঘ এবং বৃদ্ধির চার্ট মূল্যায়ন করা দরকার। প্রয়োজনে চিকিৎসক বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শ দিতে পারেন। ও সঠিকভাবে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং মায়ের পুষ্টির যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া ছয় মাসের আগে খাবার, গরুর দুধ বা অন্য কোন মিশ্রণ দিয়ে ওজন বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না।
ছয় মাস পূর্ণ হলে খাবার শুরু করার নিয়ম
শিশুর ৬ মাস পূর্ণ হলে ধীরে ধীরে পরিপূরক খাবার শুরু করা যায়। প্রথমে অল্প পরিমাণে নরম, মিহি এবং পুষ্টিকর খাবার দিন। শিশু খাবার গ্রহণে অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে পরিমাণ, ঘনত্ব ও খাবারের বৈচিত্র বাড়ান।
শিশু সোজা হয়ে বসতে পারে কিনা, মাথা স্থির রাখতে পারে কিনা এবং খাবার গিলতে পারে কিনা এসব বিষয়েও খেয়াল করুন। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে ৬ মাসের আগে খাবার শুরু করবেন না। খাবারের সময় শিশুকে সোজা করে বসিয়ে সরাসরি নজরদারিতে খাওয়ান ।
ছয় মাসের পর কোন খাবার দেয়া যায়?
ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর শিশুকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যায়। যেমনঃ
ভালোভাবে সেদ্ধ ও চটকানো ভাত ডাল এবং সবজি।
নরম খিচুড়ি, যাতে ডাল, সবজি ও উপযুক্ত প্রোটিন থাকে।
ভালোভাবে রান্না করা ডিম, মাছ বা মাংস উপযুক্ত নরম অবস্থায়।
, চটকানো কলা পাকা পেঁপে বা অন্যান্য নরম ফল।
বয়স উপযোগী অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার।
শিশুর খাবার বৈচিত্র রাখুন, যাতে সে পর্যাপ্ত শক্ত্ প্রোটিন, আইরন ও অন্যান্য পুষ্টি পায়। খাবারের অতিরিক্ত লবণ ও চিনি দেবেন না। শক্ত বাদাম, আজ তো আঙ্গুর বা শক্ত বড় খাবারের, টুকরার মত তৈরি করে এমন খাবার এড়িয়ে চলুন।
শিশুর খাবার তৈরিতে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব
শিশুর খাবার তৈরি সময় পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাবার প্রস্তুত এর আগে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। পরিষ্কারবাসন ব্যবহার করুন। মাছ,-মাংস ও ডিম ভালোভাবে রান্না করুন।
রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখবেন না। শিশুকে খাওয়ানোর জন্য আলাদা পরিষ্কার চামচ ও বাটি ব্যবহার করুন। খাবারের পাত্র থেকে খাবার বারবার তুলবেন না। এসব নিয়ম মেনে চললে খাবারের মাধ্যমে জীবানু ছড়ানোর ঝুঁকি কমানো যায়।
শিশুকে খাওয়ানোর সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
শিশুকে কখনো জোর করে খাবার খাওয়াবেন না। ধৈর্য ধরে তার ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত বুঝতে চেষ্টা করুন। প্রথমদিকে শিশু অল্প খাবার খেতে পারে বা নতুন খাবার গ্রহণে অনীহা দেখা দিতে পা... এতে হতাশ না হয়ে সময় নিয়ে আবার চেষ্টা করুন।
শিশুকে শুইয়ে বা একা রেখে খাবার খাওয়াবেন না। খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইলের বদলে শিশু সঙ্গে কথা বলুন এবং তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করুন। খাবারের উপযুক্ত ঘনত্ব ও পরিমাণ বয়স অনুযায়ী বাড়ান বুকের দুধও চালিয়ে যান।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি
শিশু ঠিকমতো বুকের দুধ পান না করলে, প্রসাব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে, ওজন না বাড়লে বা বারবার বমি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। শিশুর অতিরিক্ত নিস্তেজ হয়ে পড়া, শ্বাসকষ্্ খেতে না পারা বা পানি শূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
ছয় মাস আগে বাড়তি খাবার দেওয়ার কোন বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে মনে হলে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন। শিশুর বয়স্ ওজন, শারীরিক অবস্থায় এবং পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসক উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারেন।
শিশুর সুস্থ বিকাশে অভিভাবকের করণীয়
নিঃসৃত করতে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে এক চটি অভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং টিকাদান সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করুন।
ছয় মাস পূর্ণ হলে বুকের দুধের পাশাপাশি পুষ্টিকর ও নিরাপদ বাড়তি খাবার শুরু করুন। পরিবারের প্রচলিত ধারণা বা অন্য শিশু সঙ্গে তুলনা করে খাবারের সিদ্ধান্ত নেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।
উপসংহার
বাচ্চা জন্মের ছয় মাসের মধ্যে বাড়তি খাবার দেয়া যাবে কিনা এর সাধারণ উত্তর হল, ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুকেশ সাধারণ বাড়তি খাবার না দিয়ে এক চটি অভাবে বুকের দুধ খাওয়ানোই সুপারিসকৃত পদ্ধতি। বুকের দুধ সম্ভব না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ফর্মুলা দুধ ব্যবহার করা যায়। ছয় মাস পূর্ণ হলে ধীরে ধীরে পুষ্টিকর, নিরাপদ ও বয়স উপযোগী খাবার শুরু করতে হবে। শিশুর সঠিক পুষ্ট্ পরিছন্নতা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ তার সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই শিশুর খাবার নিয়ে কোন সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url