জীবনের প্রতিটি বয়সে আলাদা সৌন্দর্য গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। তবে ৩০
পার হওয়ার পর অনেকের জীবনের নতুন কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এই সময়ে
কাজের চাপ বাড়ে পরিবার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দায়িত্ব বেড়ে যায় আর নিজের স্বাস্থ্য
ও মানসিক শান্তির দিক নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অনেকে মনে করেন 30 বছর পার হলেই বুঝি বয়স বেড়ে যাওয়ার প্রভাব শুরু হয় কিম্বা
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ধীরে ধীরে কমে আসে। বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। ভুল
অভ্যাস পরিবর্তন করার এবং ভবিষ্যতের জন্য তো ভীত গড়ে তোলার একটি
গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।এই বয়সে সুস্থ থাকতে হলে শুধু খাবার বা ব্যায়ামের দিকে নজর
দিলেই চলে না। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্ক কর্মজীবন এবং
ব্যক্তিগত উন্নয়ন কেউ গুরুত্ব দিতে হয়।
তাহলে বয়স ত্রিশের বেশি হলে কি কি করা উচিত? কিভাবে নিজের শরীর, মন, অর্থ ও
ভবিষ্যতকে আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়_ চলুন জেনে নেওয়া যাক ৩০ বছরের পর
একটি সুস্থ সুন্দর ও পরিকল্পিত জীবন গড়ার ১৫ টি গুরুত্বপূর্ণ করণীয়
৩০ বছর পার হওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা উচিত নয়।কর্মব্যস্ততার কারণে
অনেকেই শরীরের ছোটখাটো সমস্যা কে গুরুত্ব দেয় না। কিন্তু কোন সমস্যা দীর্ঘদিন
চলতে থাকলে সেটি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।প্রতিদিনের
জীবনযাপনে এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলুন, যার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। যেমন
পর্যাপ্ত পানি পান করা, দীর্ঘ সময় একটা না বসে না থাকা্ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন
থাকা, এবং নিয়মিত শারীরিকভাবে স্বয়ংক্রিয় থাকা।
মনে রাখবেন, সুস্থ থাকা মানে শুধু রোগ না থাকা নয়্, বরং দৈনন্দিন কাজগুলো
স্বাচ্ছন্দে করতে পারা এবং শারীরিকভাবে ভালো অনুভব করা সুস্থ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ
অংশ।
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খান
শরীর সুস্থ রাখার জন্য খাবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩০ বছরের পর অনেকের
খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে
অনিয়মিত খাবার খান বা অতিরিক্ত তেল চর্বিযুক্ত খাবারের উপর নির্ভর করেন।
অতিরিক্ত চিনি, লবন, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে আনুন ।একই সঙ্গে
ক্রাশ ডায়েট বা দ্রুত ওজন কমানোর অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এড়িয়ে চলুন ।সবার শরীরের
চাহিদা এক নয় তাই নিজের স্বাস্থ্য কাজের ধরন ও শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী
খাবার নির্বাচন করায় বুদ্ধিমানের কাজ ।
নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন
সুস্থ থাকার জন্য জিমে যাওয়া বাধ্যতামূলক নয় । নিয়মিত হাঁটা , সাইকেল
চালানো ,সাঁতার কাটা , কিংবা বাড়িতে সহজ কিছু ব্যায়াম করেও শারীরিক
সহকর্মতা বাড়ানো সম্ভব ।প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণভাবে অন্তত ১৫০ মিনিট
মাঝারি মাত্রায় শারীরিক কার্যকলাপ এবং সপ্তাহে অন্তত দুই দিন বেশি শক্তি
বাড়ানোর ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয় । নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে
এই অভ্যাস গড়ে তুলুন ।
যারা দীর্ঘদিন ব্যায়াম করেননি তারা প্রথমে কঠিন ব্যায়াম শুরু করবেন না ।
প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাটা দিয়ে শুরু করতে পারেন এবং ধীরে ধীরে সময়
বাড়াতে পারেন ।নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের সক্ষমতা বজায় রাখতে , মন ভালো রাখতে এবং
দীর্ঘ সময় কর্মকম থাকতে সহায়তা করে ।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
ব্যস্ত জীবনে অনেকেই রাত জেগে কাজ করেন । মোবাইল ব্যবহার করেন অথবা দুশ্চিন্তার
কারণে ঠিকমত ঘুমাতে পারেন না । কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম সরিলও মস্তিষ্কে স্বাভাবিক
কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেশিরভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ সাধারণত
প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। তবে ব্যক্তিবেদে চাহিদা কিছুটা
ভিন্ন হতে পারে। প্রতিদিন কাছাকাছি সময় ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস
করুন।যদি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা থাকে , রাতে বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায় , অথবা
পর্যাপ্ত ঘুমের পর অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।
মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
৩০ বছরের পর দায়িত্ব অর্থনৈতিক চাপ পারিবারিক প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে
চিন্তা অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে । বাইরে থেকে সবকিছু
স্বাভাবিক দেখলেও ভেতরে ভেতরে কেউ কেউ মানসিক চাপে ভুগতে পারেন ।
তাই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন । প্রয়োজন হলে বিশ্বাসযোগ্য মানুষের সঙ্গে কথা
বলুন প্রতিদিন কিছুটা সময় বিশ্রামের জন্য রাখুন , এবং যে কাজগুলো আপনাকে আনন্দ
দেয় সেগুলোর জন্য সময় বের করুন ।অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করা
বন্ধ করার চেষ্টা করুন । সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেখা সবার সাফল্য বা
সুন্দর মুহূর্ত তাদের জীবনের সম্পূর্ণ চিত্র নয় ।মানসিক অস্থিরতা দীর্ঘদিন ধরে
চললে এবং দীর্ঘদিন জীবন ব্যাহত করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে
দ্বিধা করবেন না ।
ওজন ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার শরীরে একই ধরনের পরিবর্তন হয় না ।
তবে জীবন যাপনের ধরন খাবার , ঘুম , শারীরিক সংক্রিয়তা ও হরমোনের
পরিবর্তনের কারণে কারো কারো ওজন বা শরীরের গঠন পরিবর্তন আসতে পারে ।
তাই শুধু ওজনের সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে নিজের কর্মক্ষমতা ,কোমরের মাপ ,
খাবারের অভ্যাস এবং সামগ্রিক সুস্থতার দিকে নজর দিন ।
ওজন বেড়ে গেলে নিজেকে দোষারোপ না করে , কারণ বোঝার চেষ্টা করুন । ধীরে ধীরে
খাদ্য ভাস ঠিক করা নিয়মিত হাটা , এবং পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর
পরিবর্তন আনা সম্ভব ।
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি কিংবা অন্য কোন নতুন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ
নিন ।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান
শরীরে কোন সমস্যা অনুভব না করলেও বয়স পারিবারিক ইতিহাস এবং ব্যক্তিগত ঝুঁকি
অনুযায়ী কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে । উচ্চ রক্তচাপ ডায়াবেটিক্স
এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ ।
তবে সবার জন্য একই ধরনের পরীক্ষা বা একই সময়সূচি প্রযোজ্য নয় । চিকিৎসকের
সঙ্গে আলোচনা করে নিজের জন্য উপযুক্ত পরীক্ষা ও টিকার সময়সূচি নির্ধারণ করুন ।
নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তিগত প্রয়োজন আলাদা হতে পারে । নারীদের জন্য
প্রয়োজন অনুযায়ী জরায়ু মুখের ক্যান্সার স্কিনিং সহ নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক
সেবা এবং উভয়ের ক্ষেত্রেই পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ।
নিজে থেকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন গ্রহণ
করা পরবর্তীতে সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিন ।
আরো পড়ুনঃ সুস্থ সুন্দর ও সফল জীবন গড়ার ১৫ টি গুরুত্বপূর্ণ উপায়
আর্থিক পরিকল্পনা ও সঞ্চয় শুরু করুন
জীবনের স্মৃতিশীলতার জন্য আর্থিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরী । ৩০ বছরের পর অনেকের
ওপর পরিবার চালানো , বাড়ি ভাড়া , চিকিৎসা সন্তানের শিক্ষা , কিংবা ভবিষ্যৎ
নিরাপত্তার মত দায়িত্ব এসে পড়ে ।
আপনার আয় কত? এবং মাসে কোথায় কত টাকা খরচ? হচ্ছে তার একটি হিসাব রাখুন ।
অপ্রয়োজনীয় খরচ চিহ্নিত করুন । এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সঞ্চয় করার
চেষ্টা করুন ।
শুরুতে অনেক টাকা সঞ্চয় করতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই । অল্প টাকা দিয়ে শুরু করাও
ভালো সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে জরুরী পরিস্থিতি জন্য আলাদা তহবিল গড়ে তুলুন । ঋণ
থাকলে তার সুদ কিস্তি ও পরিষদের সময়সীমা বুঝে পরিকল্পনা করুন ।
নতুন দক্ষতা অর্জন করুন
শেখার জন্য নির্দিষ্ট কোন বয়স নেই । ৩০ বছর পার হওয়ার পরও নতুন ভাষা শেখা
,কম্পিউটার দক্ষতা , বাড়ানো লেখালেখি ,ডিজিটাল মার্কেটিং , কিংবা অন্য কোন
পেশাগত দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব ।
বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা এবং নতুন সুযোগ তৈরি করার জন্য শেখার
মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।
প্রথমে নিজের আগ্রহ ও প্রয়োজন বুঝুন ।এরপর একটি নির্দিষ্ট দক্ষতা বেছে
নিয়ে ,প্রতিদিন কিছুটা সময় ও অনুশীলন করুন । বিনামূল্যে বিনামূল্যের
নির্ভরযোগ্য শিক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে শুরু করা যায় ।শুধু কোর্স শেষ করাই
লক্ষ্য হওয়া উচিত নয় । শেখা বিষয়ে দিয়ে ছোট ছোট কাজ করা নিজের কাজের নমুনা
তৈরি করা , এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করুন ।
মনে রাখবেন প্রতিদিনের সামান্য অগ্রগতি ও দীর্ঘ সময়ে বড় পরিবর্তন আনতে
পারে ।
ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করুন
৩০ বছরের পর নিজের কর্মজীবন দিয়ে নতুন করে ভাবার ভালো সময় হতে পারে । আপনি যে
কাজ করেছেন সেটি কি আপনার দক্ষতা আগ্রহ ? ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের সঙ্গে নাকি নতুন কোন
যুগের সুযোগের জন্য প্রস্তুতি নেয়া দরকার ?
নিজের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করুন । বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করার পরিকল্পনা
থাকলে আগে বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি নিন ।
শুধু অন্যকে সফল হতে দেখে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেবেন না । নতুন কাজের বাজার সম্ভাব্য
আয় , প্রাথমিক খরচ ,সময় এবং ঝুঁকি সম্পর্কে জানুন । একটি পরিকল্পনা
তৈরি করুন এবং ছোট ধাপে এগিয়ে যান । সাফল্য পেতে সময় লাগতে পারে । কিন্তু
পরিকল্পিত প্রচেষ্টা আপনাকে লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে রাখবে ।
পরিবার ও সম্পর্ককে সময় দিন
জীবনের বাস্তবতার অনেক সময় পরিবারের সদস্য বন্ধু এবং কাজের মানুষদের যথেষ্ট
সময় দেওয়া হয় না । অথচ সুস্থ সম্পর্ক মানসিক শান্তি ও জীবনের আনন্দের একটি
গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন । তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে জানুন
,এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ান । বাস্তবতার মধ্যেও কাছের মানুষের জন্য
নির্দিষ্ট সময় রাখার চেষ্টা করুন ।
একই সঙ্গে সুস্থ সম্পর্কের জন্য ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা জরুরী সবাইকে খুশি
করতে গিয়ে নিজের প্রয়োজন ও মানসিক শান্তিকে সম্পন্ন উপেক্ষা করবেন না ।
যে সম্পর্কগুলোতে সম্মান বিশ্বাস পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে সেগুলো যত্ন নিয়ে
বজায় রাখুন । সমস্যা তৈরি হলে দোষারোপের পরবর্তীতে শান্তভাবে আলোচনা করার চেষ্টা
করুন ।
খারাপ অভ্যাস পরিহার করুন
দীর্ঘদিনের কিছু অভ্যাস ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে যেমন ধূমপান তামাক
ব্যবহার অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ অনিয়মিত ঘুম দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয় থাকা এবং
অতিরিক্ত ফুড খাওয়া
এসব অভ্যাস পরিবর্তন করতে একদিনেই সবকিছু বদলে ফেলা প্রয়োজন নেই বরং একটি করে
অভ্যাস বেছে নিয়ে পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।
যেমন প্রতিদিনের হাঁটার সময় বাড়ানো রাতে নির্দিষ্ট সময় মোবাইল বন্ধ করা কিংবা
খাবারের সঙ্গে আরো শাকসবজি যোগ করা দিয়ে শুরু করতে পারেন।
ধূমপান বা তামাক ছাড়তে অসুবিধা হলে চিকিৎসকের সহায়তা নিন নিজের অগ্রগতি ছোট
হলেও সেটিকে গুরুত্ব দিন অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা অনেক বেশি
গুরুত্বপূর্ণ
নিজের জন্য সময় বের করুন
সব সময় কাজ পরিবার ও দায়িত্বের মধ্যে ডুবে থাকলে একসময় মানসিক ক্লান্তি তৈরি
হতে পারে তাই নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা স্বার্থপরতা নয় বরং সুস্থ জীবন
যাপনের একটি অংশ
আপনি বই পড়তে পারেন বাগান করতে পারেন গান শুনতে পারেন নতুন কোন জায়গায় ঘুরতে
যেতে পারেন অথবা পছন্দের কোন সৃজনশীল কাজ করতে পারেন
নিজের আগ্রহ গুলোকে গুরুত্ব দিন কোন কাজ করার জন্য সব সময় আর্থিক লাভ বা অন্যের
প্রশংসা পাওয়ার প্রয়োজন নেই
প্রতিদিন অল্প সময় হলেও এমন কিছু করুন যা আপনাকে আনন্দ দেয় এবং মানসিকভাবে সতেজ
রাখতে সাহায্য করে
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিখুন
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ব্যক্তিগত জীবন শিক্ষা ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে
গভীরভাবে যুক্ত।
তাই বয়স ত্রিশের বেশি হলেও নতুন প্রযুক্তি শেখার ব্যাপারে পিছিয়ে থাকার কোন
কারণ নেই।
কম্পিউটারের কার্যকর ব্যবহার অনলাইন নিরাপত্তার ডিজিটাল প্রেমেন্ট ইমেইল এবং
প্রয়োজনীয় অনলাইন সেবা গুলো সম্পর্কে ধারণা ্র রাখুন।
কর্মজীবনের উন্নতির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সফটওয়্যার বা ডিজিটাল দক্ষতা
শিখতে পারেন তবে, ইন্টারনেটে পাওয়া সব তথ্যকে সত্য ধরে নেবেন না।
অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা যাচাই না করে টাকা পাঠানো কিংবা কাউকে পাসওয়ার্ড ও গোপন
কোড দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।প্রযুক্তিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যমে ব্যবহার করুন।
ইতিবাচক চিন্তা ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
৩০ বছরের পর জীবনের অনেক কিছু অর্জন করার ইচ্ছা থাকতে পারে। কেউ নিজের বাড়ি করতে
চায়, কেউ ভালো চাকরি পেতে,চায়, কেউ ব্যবসা শুরু করতে চায় আবার কেউ সুস্থ ও
শান্তিপূর্ণ জীবন চায়।
কিন্তু সব লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব নয় তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী
অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন।
অতীতের ভুল নিয়ে অতিরিক্ত অনুশোচনা না করে সেখান থেকে শিক্ষা নিন অন্যের সঙ্গে
প্রতিযোগিতা করার পরিবর্তে নিজের গতকালের অবস্থার চেয়ে আজ একটু ভালো হওয়ার
চেষ্টা করুন।
ইতিবাচক চিন্তা মানে সমস্যাকে অস্বীকার করা নয় বরং সমস্যা শিকার করে
সমাধানের জন্য বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া
বয়স ত্রিশের বেশি হওয়া জীবনের কোন অসমাপ্তি নয়। বরং এটি নিজের জীবনকে আরো
সচেতন ভাবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। স্বাস্থ্য মানসিক শান্তি
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত উন্নয়নের ভবিষ্যৎ জীবন আরো সুন্দর ও
সংগঠিত হতে পারে তবে একদিন সবকিছু পরিবর্তন করার চেষ্টা না করে ছোট ছোট অভ্যাস
দিয়ে শুরু করুন। আজ থেকে নিয়মিত হাটা পুষ্টিকর খাবার খাওয়া পর্যাপ্ত ঘুম নতুন
কিছু শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন মনে রাখবেন জীবনে সফল হওয়ার জন্য সময় এক নয়
পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে চলুন।
আপনার বয়স ৩০ পেরিয়ে গেলে আজ থেকেই নিজের জন্য একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিন কারণ
সবচেয়ে ভালো সময় হলো বর্তমান
লেখকের পরামর্শ এ আর্টিকেল এর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য সাধারন সচেতনতার জন্য
ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা পরীক্ষা চিকিৎসা বিষয়ে স্বাস্থ্যবিদের পরামর্শ নিন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url