নিম পাতার হাজারো গুনাগুন

 

নিম গাছকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২১ শতকের বৃক্ষ বলে ঘোষণা করেছেন। কারণ নিম গাছ পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই নিমগাছে রয়েছে অনেক ঔষধি গুনাগুন। এর পাতা থেকে বাকল, শিকড় থেকে ফুল, ফুল থেকে বীজ, সবকিছুই শক্তিশালী ওষুধে ভরপুর। অনেকেই ওজন কমাতে চায় সে ক্ষেত্রে আপনারা এই নিমপাতা কে ঔষধ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। নিম পাতা থেকে আরও কি কি উপকৃত হতে পারি আমরা সেই সম্পর্কে আজকে আলোচনা করব।

আরো পড়ুন: নিম পাতা থেকে আমরা কি কি গুনাগুন পেয়ে থাকি











 




সূচিপত্র: নিম পাতার কার্যকারিতা ও গুনাগুন


 

খুকশির সমস্যা সমাধানের নিমপাতা

প্রথমে আমরা একটি বাটিতে দুই গ্লাস পরিমাণ পানি গরম করবো। পানিটি যখন ফুটতে শুরু করবে তখন তার মধ্যে নিমপাতা গুলো এড করে দিব, এবং নিম পাতা গুলো কে প্রায় ১০ মিনিট বয়েল করে নিব। যতক্ষণ পরিমানে পানিটা একেবারে শুকিয়ে দুই গ্লাস পানি এক গ্লাসে না আসে, এবং নিম পাতার যে একটা রং আছে তা বের হয়ে না আসে। শুরুতে  পানির রংটা স্বাভাবিক থাকলেও নিম পাতার নিগ্রাস বের হলে তা পরিবর্তন হয়ে সবুজ হয়ে যাবে। এরপর পানিটা ঠান্ডা হলে আলাদা পাত্রে ঢেকে নিতে হবে। এবং এটা মাথায় লাগিয়ে এক থেকে দুই ঘন্টা পর আপনার পছন্দের শ্যাম্পু দিয়ে ফেলতে হবে

ওজন কমাতে নিমপাতা


এই নিমপাতা শুকিয়ে গুড়ো করে একটু মধু ও একটু লেবুর রসের সাথে খেতে পারেন, বা পানীয় তৈরি করেও কিন্তু খেতে পারেন। এই নিম পাতার গুড়া লেবুর রস ও মধু একসাথে মিশ্রিত করে নিয়মিত খেলে ওজন কমে যাবে।

চুল মজবুত ও চুল পড়া কমাতে নিম পাতা



নিম পাতা হল প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক ঔষধ যা আমাদের চুল পড়া বন্ধ করতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে পাশাপাশি চুলের গোড়া শক্ত করে এবং খুকশি দূর করতে সাহায্য করে।

  • প্রথমে নিম পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে 
  • তারপর এর পেস্ট তৈরি করব
  • এরপর এই রসগুলো আলাদা বাটিতে ছেঁকে নিতে হবে
  • এর সাথে আপনার পছন্দের তেল মিশাবেন আপনি না চাইলে তেল না দিয়েও সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন



মনে রাখবেন চুলের গোড়ায় ভালোভাবে এর রস মেসেজ করতে হবে। কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে তারপর হালকা গরম পানি ও শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন। এভাবে সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন কর।

প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহারে নিম পাতার গুনাগুন


কিছুটা নিমপাতা জ্বাল করে, সেই নিম পাতার রস, একটু হলুদের গুড়া,  একটু মরিচের গুরা, সব একসাথে এড করে স্প্রে করে দিলে সব ধরনের পোকামাকড় একেবারে মরে যাবে। এতে করে আপনার শাক-সবজি বিভিন্ন ফলমূল পোকা মুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।

নিম পাতা খেলে কোন কোন রোগ দ্রুত দূর হয়



  • রক্ত পরিষ্কার হয়
  • তোরে সমস্যা দূর করে
  • প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
  • হজম শক্তি উন্নত করে
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • চুল পড়া ও খুকশিট কমাতে বেশ উপকারী
  • শরীরের চুলকানি দূর করে
ইত্যাদি।

চুলকানি ও এলার্জি দূর করতে নিম পাতার ব্যবহার

নিমপাতা আর কাঁচা হলুদ একসাথে বেটে রস বের কর। যেখানে চুলকানি এলার্জি সেখানে সেই রস প্রয়োগ ভিজিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দেন। শুকিয়ে যাওয়ার পরে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেল। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলকানি এলার্জি দূর হয়ে যাবে।

নিম পাতার উপকারিতার বিশেষ কিছু দিক

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  • চর্ম রোগের চিকিৎসা
  • চুল পড়া ও খুব শীত প্রতিরোধ
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ
  • জর সর্দি প্রতিরোধ
  • এন্টি অক্সিজেন সমৃদ্ধ
  • ক্ষত নিরাময়
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ

(সতর্কতা)

১। অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
২। গর্ভবতী ও স্তনদানকারী নারীদের এটি ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url